Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ মে ২০২১

আইন ও বিধি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১- এ সন্নিবেশিত টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন, ২০০৬ এর ক্ষমতাবলে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে দেশের সকল টেলিযোগাযোগ সেবা দানকারী সকল মাধ্যমে আইনসম্মত মনিটরিং কাজে আইনপ্রয়োগকারী গোয়েন্দা সংস্থা করে আসছে।

 

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন,২০০১ –এর ধারা ৯৭৷ জরুরী পরিস্থিতিতে সরকারের অগ্রাধিকার । – (১) যুদ্ধ চলাকালে বা কোন বিদেশী শক্তি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি করিলে বা আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ বা নৈরাজ্য দেখা দিলে বা অন্য কোন কারণে বাংলাদেশের প্রতিরতগা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা অন্যান্য জরুরী রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন দেখা দিলে, যে কোন বেতার যন্ত্রপাতি বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোন পরিচালনকারী বা অন্য যে কোন ব্যবহারকারীর তুলনায় সরকারের অগ্রাধিকার থাকিবে৷
(২) এই আইন বা আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি জরুরী অবস্থা ঘোষণা করিলে অথবা সরকারের বিবেচনায় রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে সরকার এই আইনের অধীন প্রদত্ত বা ইস্যুকৃত সকল বা যে কোন সনদ, আদেশ বা লাইসেন্সের কার্যকারিতা অথবা যে কোন পরিচালনাকারী কর্তৃক প্রদত্ত টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান নির্ধারিত সময়ের জন্য স্থগিত বা সংশোধন করিতে পারিবে৷

টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন,২০০৬ এর সন্নেবেশিত ধারা ৯৭ক। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার স্বার্থে বিশেষ বিধান।– (১)এই আইন বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জন শৃঙ্খলার স্বার্থে যে কোন টেলিযোগাযোগ সেবা ব্যবহারকারীর প্রেরিত বার্তা ও কথোপকথন প্রতিহত, রেকর্ড ধারণ বা তৎসম্পর্কিত তথ্যাদি সংগ্রহের জন্য সরকার সময় সময় নির্ধারিত সময়ের জন্য গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত সংস্থার কোন কর্মকর্তাকে ক্ষমতা প্রদান করিতে পারবে এবং উক্ত কার্যক্রম সার্বিক সহয়তা প্রদানের জন্য টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানকারীকে নির্দেশ দিতে পারবে এবং পরিচালনাকারী উক্ত নির্দেশ পালন করিতে বাধ্য থাকিবে।

(২)এই ধারার উদ্দেশ্য পুরনকল্পে “সরকার” বলিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে এই ধারার বিধান প্রয়োগযোগ্য হইবে।

ব্যাখ্যাঃ
(১) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলা –যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর, উস্কানিমুল্ক ঘটনা থেকে রাষ্ট্র ও জনগণকে নিরাপদ ও শৃঙ্খল রাখা।
(২) টেলিযোগাযোগ সেবা- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন – ২০০১ এর গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা এবং ব্যাখ্যা অনুযায়ী
“টেলিযোগাযোগ সেবা” অর্থ নিম্নবর্ণিত যে কোন সেবাঃ
ক। টেলিযোগাযোগ অভিব্যক্তিটির সংজ্ঞার আওতায় পড়ে এমন কোন কিছুকে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সাহায্যে প্রেরণ বা গ্রহণ;
খ। টেলিযোগাযোগ সেবার সম্প্রসারিত সেবা (value added service -যেমন, ফ্যাক্স, ভয়েস মেইল, পেজিং সার্ভিস);
গ। ইন্টারনেট সেবা;
ঘ। উপরে (ক) (খ) ও (গ) তে বর্ণিত সেবা ব্যবহারের সুবিধার্থে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পর্কিত অবগতিমূলক বা নির্দেশনামূলক তথ্যাদি সরবরাহ করা;
ঙ। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সহিত সংযুক্ত বা সংযোজিতব্য যন্ত্রপাতি স্থাপন বা রক্ষণাবেক্ষণ, অথবা উক্ত যন্ত্রপাতির সমন্বয়সাধন, পরিবর্তন, মেরামত, স্থান পরিবর্তন বা স্থালাভিষিক্তকরন সংক্রান্ত সেবা;(১৫)
(৩) প্রেরিত বার্তা ও কথোপকথন - মোবাইল এসএমএস এবং মোবাইল কথোপকথন
(৪) টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করে থাকে এরুপ প্রতিষ্ঠান সমূহ হল MNO, IIG,ISP,IGW,ICX, NIX, Broad Band Wireless Access (WiMAX), PSTN, BDIX
(৫) “পরিচালনাকারী–বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন – ২০০১ এর গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা এবং ব্যাখ্যা অনুযায়ী পরিচালনাকারী (Operator)” অর্থ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন বা পরিচালনের জন্য, বা টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের জন্য বা এই ধরনের একাধিক কাজের সমন্বিত ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য, লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তি; (১৯)
(৬) “ব্যক্তি” শব্দের আওতায় কোন প্রাকৃতিক ব্যক্তি স্বত্বাবিশিষ্ট একক ব্যক্তি (individual), অংশীদারী কারবার, সমিতি, কোম্পানী, কর্পোরেশন, সমবায় সমিতি, এবং সংবিধিবদ্ধ সংস্থা (statutory body) অন্তর্ভুক্ত;(ধারা- ২৪)

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন – ২০০১ এর আরও কিছু আনুসাংগিক গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা এবং ব্যাখ্যাঃ
(৭) “টেলিযোগাযোগ” অর্থ কোন কথা (Speech), শব্দ (sound),চিহ্ন, সংকেত, লেখা, দৃশ্যমান প্রতিকৃতি বা অন্যবিধ যে কোন ধরনের বুদ্ধিবিত্তিক অভিব্যক্তিকে তড়িৎ, (১) চুম্বক-শক্তি, তড়িৎ-চুম্বকীয়শক্তি, তড়িৎ-রাসায়নিক বা তড়িৎ যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহারক্রমে তার, (২) নল, বেতার (৩) অপটিক্যাল বা অন্য কোন তড়িৎ-চুম্বকীয় বা তড়িৎ-রাসায়নিক বা তড়িৎ-যান্ত্রিক বা কৃত্রিম উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রেরণ ও গ্রহণ।(ধারা-১১)

ব্যাখ্যাঃ
(১) চুম্বক-শক্তি, তড়িৎ-চুম্বকীয়শক্তি, তড়িৎ-রাসায়নিক বা তড়িৎ যান্ত্রিক শক্তি হল ইলেক্ট্রনিক তথ্য ও ডাটা আদান প্রদান এর জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি ।
(২) নল অর্থ সুরক্ষিত ডাটা -আদান প্রদানের জন্য ব্যবহৃত মাধ্যম ।
(৩)অপটিক্যাল– আলোক রশ্নির মাধ্যমে ইলেক্ট্রনিক ডাটা আদান প্রদান করানো হয়।

(৮) “টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি”অর্থ টেলিযোগাযোগ অভিব্যক্তিটির সংজ্ঞার আওতায় পড়ে এইরূপ কোন কিছুকে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সাহায্যে প্রেরণ বা গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত যে কোন যন্ত্রপাতি।(ধারা-১২)
(৯) “টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা”অর্থ টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতির সমন্বিত রূপ ( যেমন সুইচিং ব্যবস্থাদি, প্রেরণ যন্ত্রপাতি , প্রান্তিক যন্ত্রপাতি, কৃত্রিম উপগ্রহ ইত্যাদি), এই সকল যন্ত্রপাতি দৃশ্যতঃ পরস্পর সংযুক্ত থাকুক বা না থাকুক বা উহারা একযোগে তথ্য বা বার্তা প্রেরনের কাজে ব্যবহৃত হউক বা না হউক;(ধারা- ১৩)
(১০) “টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক”অর্থ এমন একগুচ্ছ সংযোগস্থল (node) এবং সংযোগ লাইন (link) এর সমাহার যাহা দুই বা ত্তোধিক অবস্থানের মধ্যে টেলিযোগাযোগ স্থাপন করে(ধারা- ১৪)
(১১) “প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী যন্ত্রপাতি”অর্থ বেতার যন্ত্রপাতি ব্যতীত অন্য এমন যন্ত্রপাতি বা কৌশল যাহা বেতার যোগাযোগে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বা করিতে সক্ষম;(ধারা -১৭)

টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন,২০০৬ এর সন্নেবেশিত ধারা ৯৭খ৷ সাতগ্যমূল্য ।–
সাতগ্য আইন, ১৮৭২ (১৮৭২ সনের ১নং আইন) বা অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৯৭ক এর অধীন সংগৃহীত কোন তথ্য বিচার কার্যক্রমে সাতগ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে৷

টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) আইন,২০০৬ এর সন্নেবেশিত ধারা ৯৭গ৷ ধারা ৯৭ক এর বিধান লঙ্ঘন দণ্ড।–
ধারা ৯৭ক মোতাবেক গোয়েন্দা সংস্থা, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা বা আইন-শৃঙ্খলা রতগার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া কোন আদেশ বা নির্দেশ প্রদান করিলে এবং উক্ত আদেশ যদি কোন ব্যক্তি লঙ্ঘন করেন তাহা হইলে তিনি-
(ক) প্রথমবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক তিন মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ লক্ষ টাকা হইতে দশ লক্ষ টাকার যে কোন পরিমাণের অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন;
(খ) দ্বিতীয়বার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে অনধিক এক বছরের কারাদন্ড বা দশ লক্ষ টাকা হইতে বিশ লক্ষ টাকার যে কোন পরিমাণের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন;
(গ) তৃতীয়বার এবং পরবর্তী প্রতিবার অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে তিন বছরের কারাদণ্ড বা পঁচিশ লক্ষ টাকা হইতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার যে কোন পরিমাণের অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং আদালত যথার্থ বিবেচনা করিলে উক্ত ব্যক্তির নামীয় লাইসেন্স বাতিলের জন্য কমিশনকে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে ।


Share with :

Facebook Facebook